মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

এসাব এবং ইপিআরসি এর মাঝে সমেঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত


প্রকাশন তারিখ : 2016-09-26

 

তারিখঃ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১  

প্রেস রিলিজ  

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে গবেষণায় ও উদ্ভাবনে তরুন প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে

বাংলাদেশ এনার্জি এন্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (ইপিআরসি) এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এসাব) এর মাঝে সমেঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত।

 

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের গবেষণা ও উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এনার্জি এন্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর মাঝে একটি সমেঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। এসাব এবং ইপিআরসি যৌথ উদ্যোগে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসব উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে ‘ন্যাশনাল হ্যাকাথন অন পাওয়ার এন্ড এনার্জি’, ‘গ্রীন এনার্জি সামিট’, ‘ইয়ুথ ইনোভেশন স্মল গ্র্যান্ট’ এর মত আয়োজনে মেধাবী তরুন প্রকৌশলীরা একত্রিত হবে এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাবে।  

ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এসাব) বিগত ৫ বছর ধরে প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও দেশের বিভিন সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই তরুণ শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে প্রকৌশলী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এসব উদ্ভাবন জনকল্যাণে এবং বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু যথাযথ যোগাযোগ, উৎসাহ, অনুদান আর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের অভাবে এসব উদ্ভাবন আলোর মুখ দেখে না।

বাংলাদেশ এনার্জি এন্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (ইপিআরসি) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের সমস্যা সমাধানে এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ এর অভাবে, ব্রেইন-ড্রেইনের কারনে কিংবা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার অভাবে অনেকসময়ই এসব কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়াও তরুনদের বিভিন্ন প্রকল্পে সম্পৃক্ত করার সুযোগ খুব সীমিত । এ চুক্তি এসব সমস্যার সমাধান ঘটাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।   

এই চুক্তির মাধ্যমে ই.পি.আর.সি. ও এসাব তাদের মিলিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে এবং প্রকৌশলী শিক্ষার্থীরা দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ও উদ্ভাবনে উৎসাহ দিতে এবং দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে ই.পি.আর.সি. ও এসাব একে অপরকে সাহায্য প্রদান করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে এসাবের সদস্যরা ই.পি.আর.সি. তে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবে। এই সমেঝোতার ফলে দেশের তরুণ প্রকৌশলীরা সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের গবেষণায় এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গবেষণা এবং উদ্ভাবন সরাসরি সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের ভবিষ্যত চাহিদাপূরনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষে দুটি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করবে এবং যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ এবং আউটরিচ প্রোগ্রামের আয়োজন করবে। এছাড়াও স্মল গ্র্যান্ট, হ্যাকাথন, সামিট, কন্টেস্ট, ইনকিউবেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশে উদ্ভাবনী সংস্কৃতির একটি ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে ।

এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। দেশকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও অংশ নিতে হবে। এই চুক্তি স্বাক্ষর সেই সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে। আলোর পথে আরো এগিয়ে যেতে এই চুক্তি সাহায্য করবে ।” 

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, ই.পি.আর.সি. এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ কায়কায়ুস বলেন, “তরুণ প্রকৌশলীরা যদি সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে এগিয়ে আসে, আমরা আমদের সর্বাত্মক চেষ্টা করবো তাদের সাহায্য করার জন্য। ইপিআরসি এবং এসাব এর এই চুক্তির ফলে তরুন প্রকৌশলীরা সরকারের কার্যক্রমের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সরকারও তরুণ প্রকৌশলীদের সহযোগিতা করার সুযোগ পাবে ।”

এসাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হাসান বলেন, “এসাবের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য মেধাবীদের সম্পৃক্ত করতে। আজকের এই স্মারকলিপি স্বাক্ষর তাদের দেশের জন্য কাজ করতে উদ্ভুদ্ধ করবে।”

অনুষ্ঠানে বি.ই.পি.আর.সি. এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ কায়কায়ুস একটি ছোট স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এরপর সমাপনী বক্তব্য রাখেন এসাবের প্রতিষ্ঠাতা ও এসাব ইনোভেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আরিফ রায়হান মাহি। তিনি বলেন, “এসাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তরুণ প্রকৌশলীদের একত্রিত করার লক্ষ্যে। এই লক্ষ্যেই আমাদের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। ই.পি.আর.সি. এর সাথে মিলিত ভাবে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি উদ্যোগসমূহকে তরান্বিত করবে এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে তরুনদের অবদান রাখার জন্য এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”   

 


Share with :
Facebook Facebook