মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

শক্তি সংরক্ষণ

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ব্যয়ে শক্তি ও শক্তি রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত উপাদানমূহের উৎপাদন এবং উৎপাদিত শক্তির সাশ্রয়ী ব্যবহারে ব্যয় কমানোর অনুশীলনকেই বলা হয় শক্তি সংরক্ষণ।

 

শক্তি সংরক্ষণ হলো প্রাপ্ত শক্তি পরিষেবা কম ব্যবহার করে শক্তির খরচ কমানোর প্রচেষ্টা। এটি আরও দক্ষতার সাথে শক্তি ব্যবহার করে (একটি ধ্রুবক পরিষেবার জন্য কম শক্তি ব্যবহার করে) বা ব্যবহৃত পরিষেবার পরিমাণ হ্রাস করে (উদাহরণস্বরূপ, কম গাড়ি চালানোর মাধ্যমে) অর্জন করা যেতে পারে। শক্তি সংরক্ষণ ইকো-পর্যাপ্ততার ( Eco-sufficiency) ধারণার একটি অংশ। ভবন নির্মানে শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থা (Energy conservation measures) শক্তি পরিষেবার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করতে সহায়তা করে এবং এর ফলে পরিবেশগত গুণমান, জাতীয় নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তা এবং উচ্চতর সঞ্চয় বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে। এটি টেকসই শক্তি শ্রেণিবিন্যাসের শীর্ষে রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে সম্পদ ক্ষয় রোধ করবে এবং শক্তির উৎপাদন ও ব্যবহার জনিত খরচ কমিয়ে দেবে।

 

অপচয় ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে, প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের মাধ্যমে দক্ষতার উন্নতি, এবং উন্নত অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে শক্তি সংরক্ষণ করা যেতে পারে। বৈশ্বিক স্তরে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্থিতিশীলতার মাধ্যমে শক্তির ব্যবহারও হ্রাস করা যেতে পারে।

 

শক্তি শুধুমাত্র এক ফর্ম থেকে অন্য ফর্মে রূপান্তরিত হতে পারে, যেমন গাড়িতে তাপ শক্তি বা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পানি প্রবাহের গতিশক্তি। এক ফর্ম থেকে অন্য ফর্মে শক্তি রূপান্তর করতে মেশিনের প্রয়োজন হয়। মেশিন চালানোর সময়  মেশিনের উপাদানসমূহ ঘর্ষণজনিত ক্ষতির সম্মুখীন হয়, শক্তির অপচয় হয় এবং অনেক বেশি পরিমান খরচ বৃদ্ধি পায়। উপাদানসমূহের জীবনচক্রকে উন্নত করার জন্য সবুজ প্রকৌশল (green engineering) পদ্ধতি অবলম্বন করে এই ক্ষতিসমূহ কমিয়ে আনা সম্ভব।

 

বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি) বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব টেকসই জ্বালানি শক্তি উন্নয়নে নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও পদ্ধতিসমূহ খুঁজে বের করে উদ্ভাবনী সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। অপচয় রোধ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে জ্বালানি শক্তির ব্যবহার কমিয়ে আনা ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিইপিআরসি জ্বালানি সংরক্ষণ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে।

 

বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি) বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জ্বালানি শক্তি সংরক্ষণে অগ্রগতি সাধনের জন্য প্রায়োগিক গবেষণা ভিত্তিক প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। ফলে জ্বালানি শক্তি সংরক্ষণের নিমিত্ত জ্বালানি দক্ষ যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়বে,বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচেতনতা বাড়বে, জ্বালানি খাতে ব্যয় কমবে, অপচয় রোধ হবে।

 

আবাসিক, বানিজ্যিক ও শিল্পখাত সহ সকল খাতে শক্তি সংরক্ষণে প্রযুক্তির বিকাশ, জ্বালানি দক্ষ যন্ত্রপাতির আপডেট, শক্তি পরিষেবা ব্যবহারে সাশ্রয়ী আচরণ,পরিবেশের উপর প্রভাব ও আর্থিক বিষয় বিবেচনায় রেখে উক্ত খাতে বিভিন্ন গবেষণা মুলক প্রকল্পে নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে অর্থায়ন করা হচ্ছে।

 

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শক্তির অপচয় রোধ হবে, প্রযুক্তির বিকাশ ঘটবে, জীবন যাপনের মান বৃদ্ধি পাবে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়বে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

 

যারা শক্তি সংরক্ষণের নিমিত্ত প্রায়োগিক গবেষণা প্রস্তাব জমা দিবেন তাদেরকে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিতে হবে।

  • জ্বালানি সাশ্রয়ী সচেতনতা।
  • আচরণগত বিজ্ঞান।
  • প্রযুক্তি এবং জীবন চক্র বিশ্লেষণ।
  • শক্তি নীতি এবং অর্থনীতি।
  • শক্তির পূর্বাভাস ও পরিকল্পনা।
  • সিস্টেম মডেলিং এবং নিয়ন্ত্রণ।

Share with :

Facebook Facebook